-
- সারাদেশে
- সুনামগঞ্জের গৃহবূধ ফিরোজা হত্যার ঘটনায় ৪জনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের
- আপডেট সময় January, 15, 2018, 8:40 pm
- 378 বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জের গৃহবূধ ফিরোজা হত্যার ঘটনায় ৪জনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের
আব্দুস সামাদ আজাদঃ

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নে বিয়ে পাগল স্বামীর পাশবিক নির্যাতনে তিন সন্তানের জননীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামাী অালী মনসুর সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সদর জোনে নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন । গতকাল সোমবার নিহত ফিরোজা খাতুনের(২৮) ভাই মোঃ আনোয়ার হোসেন বাদি হয়ে ফিরোজার স্বামী সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের বল্লবপুর গ্রামের দাদন মিয়ার ছেলে আলী মনসুন, তার বড়ভাই মোঃ মোবারক আলী(৪০), তাদের পিতা দাদন মিয়া(৬০) ও মাতা তাজু বেগম(৫৫)সহ এই ৬জনকে আসামী করা হয় । সিআর মোকদ্দমা নং-২০। মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর পূর্বে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের বল্লবপুর গ্রামের বাসিন্দা দাদন মিয়ার ছেলে মোঃ আলী মনসুরের সাথে ইসলামিক শরিয়া মোতাবেক একই উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বেরীগাঁও গ্রামের মোঃ শাহজাহান মিয়ার মেয়ে ফিরোজা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক ভালভাবে চলার সুবাধে তাদের তিনটি সন্তান ও জন্মগ্রহন করে। পরবর্তীতে বিয়ে পাগল ও যৌতুকলোভী স্বামী আলী মনসুর যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রী ফিরোজা খাতুনকে বার বার চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। ফিরোজা পিতার অভাবের সংসারের কথা বিবেচনা করে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পাষন্ড স্বামী আলী মনসুর, ভাসুর মোবারক আলী, তার শশুর দাদন মিয়া ও শাশুড়ি তাজু বেগম(৫৫), কর্তৃক গৃহবূধ ফিরোজার উপর প্রতিনিয়ত চলে শারীরিক অত্যাচার ও নির্যাতনের স্টীম রোলার। সম্প্রতি স্বামী আলী মনসুর ঢাকার এক মহিলার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে এবং ঐ মহিলাটিকে সাথে করে ঢাকা হতে তার গ্রামের বাড়ি বল্লবপুর আসেন এবং তার প্রথম স্ত্রী ফিরোজা খাতুনের অনুমতি নেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফিরোজা অনুমতি না দিলে আবারো স্বামী আলী মনসুর ফিরোজাকে যৌতুক বাবত দুই লাখ টাকা তার বাবার বাড়ি হতে নিয়ে আসার চাপ প্রয়োগ করে কিন্তু ফিরোজা টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৯ জানুয়ারী স্বামীসহ অন্যান্য আসামীরা ফিরোজার উপর চালায় পাশবিক নির্যাতন। এতে ফিরোজার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত করে তার বাবার বাড়িতে রেখে চলে যায়। কিন্তু ফিরোজার ভাই আনোয়ার হোসেন তার বোনের অবস্থা গুরুতর দেখে ঐদিন তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন। কিন্তু বোনের অবস্থা আশংঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে আনোয়ার তার বোনকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর গত ১০ জানুয়ারী ফিরোজা খাতুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্বামী আলী মনসুর ঢাকা একটি তৈরী পোশাক শিল্পকারখানায় চাকুরী করার সুবাদে এই ঘটনার একমাস পূবে স্ত্রী ফিরোজা খাতুনকে ঢাকা নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় ও রাখেন বলে অবিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার আগে স্বামী আলী মনসুর ফিরোজাকে নিয়ে তার গ্রামের বাড়ি বল্লবপুরে আসেন এবং ৯ জানুয়ারী যৌতুকের টাকার জন্য স্বামী আলী মনসুর সহ পরিবারের সদস্যরা ফিরোজার উপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় তিনি গত ১০ জানুয়ারী সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোঃ শহীদুল্লাহজানান, এখন পর্যন্ত বিজ্ঞ আদালত হতে মামলার কাগজপত্র থানায় আসেনি, আসলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ জাতীয় আরো খবর